শ্রীশ্রী রাসস্থলী নামটি শ্রবন করলেই বোঝা যায় এই আশ্র্রমের সঙ্গে রাসোৎসবের সম্পর্ক আছে। শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর মনের মাধুরী মিশিয়ে ‘নাম’ বিলাচ্ছেন সর্বত্র। ১৯৩৯ সালের কোন এক শুভক্ষণে শ্রী শ্রী ঠাকুর এলেন কুমিল্লার ময়নামতিতে পরমভক্ত ৺রাজেন্দ্রলাল বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের বাড়িতে। উনি ময়নামতি টেক্নিক্যাল স্কুলের তৎকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন। গুরু শিষ্যের মহামিলন মেলা। এদিকে শ্রী শ্রী ঠাকুরের চরণাশ্রিত কুমিল্লার দুই কৃতি সন্তান ৺যোগেশ চন্দ্র সেন ও ডাক্তার ৺যতীন্দ্র চন্দ্র দেব রায় ঠাকুরকে প্রণাম জানিয়ে বলেন, “বাবা, আমরা কুমিল্লা শহরে একটি উৎসব করার বাসনা করেছি”। শ্রী শ্রী ঠাকুর শুধালেন “কুমিল্লায় আপনারা রাসোৎসব করেন গিয়া”। শ্রী শ্রী ঠাকুরের আর্শীবাদ ধন্য হয়ে ১৯৩৯ সালেই কুমিল্লার ময়নামতিতে টেক্নিক্যাল স্কুল প্রাঙ্গঁনে শ্রী শ্রী ঠাকুরের রাসোৎসবের প্রথম অনুষ্ঠান হয়। প্রধান উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম অধ্যক্ষ ৺রাজেন্দ্রলাল বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়। এরপর ১৯৪০ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত ঐ উৎসব কুমিল্লার কান্দিরপাড় প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী ৺বসন্ত কুমার মজুমদার মহাশয়ের গৃহ প্রাঙ্গঁনে অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে একবার উৎসবের আগে শ্রী শ্রী ঠাকুর কান্দিরপাড়স্থ ঐ উৎসবের স্থান প্রদক্ষিণ করেন। দিনে দিনে ভক্ত সমাগম বাড়ছে, কিন্তু ১টি স্থায়ী আশ্রম তো করার প্রয়োজন। তাই বিদেহী ২য় মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের প্রেরণায় কুমিল্লার প্রখ্যাত উকিল ৺বিশ্বেশ্বর চট্টোপাধ্যায়ের সুযোগ্য পুত্র পরেশ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয় কুমিল্লার রাণীর বাজারের পূর্ব দিকে তার নিজের একটি জায়গা বিদেহী মহারাজকে দান করেন। ঐ জমিটি সংস্কার করে আমাদের শ্রী শ্রী রাসস্থলী আশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয় ও রাসোৎসব করার জন্য বিদেহী মহারাজ কুমিল্লার ভক্তদেরকে নির্দেশ দেন। ১৩৬৪ (বাংলা) সালে শ্রী শ্রী রাসস্থলী আশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
যেহেতু এখানে রাসোৎসবই প্রধান উৎসব সেহেতু বিদেহী মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায় উক্ত আশ্রমের নামকরণ করেন শ্রীশ্রী রাসস্থলী। এরপর ১৯৫৮ সাল হতে শ্রী শ্রী রাসস্থলীতে রাসোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
শ্রীশ্রী রাসস্থলী আশ্রম

No comments:
Post a Comment